চুক্তি হওয়ার আগেই করিডোর-ট্রানজিট নিয়ে বিএনপির অপপ্রচার

1 min read

নিউজ ডেস্ক : সম্প্রতি দিল্লী সফরকালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের সাথে ১০টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছেন। এর মধ্যে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ট্রান্সশিপমেন্ট ও রেল ট্রানজিটের একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। যা নিয়ে শুরু হয়েছে ব্যপক আলোচনা-সমালোচনা। চুক্তি হওয়ার আগেই বিএনপি ও তাদের পোষ্য সুশীলবাবুরা এটিকে ‘গোলামির চুক্তি’ হিসেবে আখ্যায়িত করে অপপ্রচারে নেমেছে।

‘বাংলার বুক চিরে ট্রেন চললে ভারতই লাভবান হবে। বাংলাদেশের নতজানু সরকারের কারণে এ সুযোগ নিচ্ছে দেশটি।’ ‘ভারতের একতরফা লাভ হলেও ক্ষতি হবে বাংলাদেশের।’‘ভারতের কাছে বাংলাদেশকে বিক্রি করে দিচ্ছে সরকার।’ বিএনপি-জামায়াতের মিডিয়া সেল এমন সব শিরোনামে ভিডিও আর হাস্যরস-কৌতুক বানিয়ে ফেসবুক-ইউটিউবে ছড়িয়ে দিচ্ছে।

অথচ ট্রানজিট চালু হলে বাংলাদেশও যে বহু সুবিধা ভোগ করতে পারবে সে সম্পর্কে কোনো তথ্যভিত্তিক ডাটা জানেন না অধিকাংশ মানুষ। ফলে অপপ্রচারের একতরফা নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে জনমনে।

তথ্যমতে, আধুনিক বিশ্বে রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে সর্বপ্রকার যোগাযোগকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়া হয়। ট্রানজিট বা করিডোর এখন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে একটি সাধারণ বিষয় হলেও বাংলাদেশে সাধারণ্যে খুব বেশি ধারণা নেই। এজন্য রাজনৈতিক অপপ্রচারের কারণে শব্দ দুটিকে নেতিবাচকভাবে দেখা হয়, যা হাস্যকরও বটে।

সাধারণত তিন বা এর চেয়ে বেশি দেশের মধ্যে আন্তঃরাষ্ট্রীয় যোগাযোগকে ট্রানজিট বলা হয়। আন্তর্জাতিক আইনে এক্ষেত্রে কোনো শুল্কের বিধান নেই। তবে অবকাঠামো ব্যবহার করলে বিনিময়ে মাশুল ধার্য করা হয়। অন্যদিকে করিডোর হলো শুধুমাত্র দুটি দেশের মধ্যে যোগাযোগ; যার যাবতীয় মাশুল ধরার বিধান রয়েছে।

আর বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে দুটি বিষয়েই আলোচনার পাশাপাশি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। কিন্তু কোনো চুক্তি হয়নি। সার্বিক সুযোগ-সুবিধা বিবেচনার পরই দুই দেশের বিশেষজ্ঞরা একমত হলে চুক্তি হওয়ার কথা রয়েছে। তবে প্রথম ধাপের আলোচনায় অধিক মুনাফাসহ দেশের যাবতীয় স্বার্থ সংরক্ষণের সুযোগ বাংলাদেশের হাতেই রয়ে গেছে। তাই চুক্তি হয়েছে এমন সমালোচনার সুযোগ নেই। মনে রাখতে হবে- বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষা হলেই চুক্তি হবে, নয়তো নয়।

আরও পড়তে পারেন

+ There are no comments

Add yours