আবারও ঈদের পর আন্দোলনের ডাক দেবে বিএনপি

1 min read

নিউজ ডেস্ক : দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর দলটির অভ্যন্তরে এবং রাজনৈতিক মহলে সর্বত্র আলোচনা চলছে- বিএনপি এখন কী করবে? বর্তমান সংসদ ভেঙে তারা আবারও নতুন নির্বাচনের দাবি তুলবে নাকি পরবর্তী নির্বাচনের জন্য পাঁচ বছর অপেক্ষা করবে?

দলটির একাধিক দায়িত্বশীল নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে বিএনপি। সংসদে না থাকলেও রাজপথে বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করতে চায় দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা। স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে ভুল ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটিয়ে আসন্ন কোরবানির ঈদের পর থেকে আবারও রাজপথের আন্দোলনে ফিরতে চায় বিএনপির শীর্ষ নেতারা।

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন, ‌’যেসব দাবিতে বিএনপি নির্বাচনের আগে আন্দোলনে নেমেছিল সে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। আমরা ঈদের পর নতুন উদ্যমে কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামবো। ‘

তবে ঘুরে দাঁড়ানোর আগেই দলের বেশিরভাগ নেতাকর্মীর কাছে হাসি-ঠাট্টা, ক্ষোভ এবং সমালোচনার পাত্র হয়েছেন কেন্দ্রীয় নেতারা। দলটির তৃণমূল নেতারা বলছেন, এ পর্যন্ত ৩০ ঈদ পার হয়েছে কিন্তু জোরালো আন্দোলন গড়ে তুলতে পারেনি হাইকমান্ড। তারপরও প্রতিবারই বলে ‘ঈদের পর কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে’, ‘নতুন কর্মসূচী আসছে ঈদের পর’। কেন্দ্রীয় নেতাদের লজ্জা থাকা উচিত! হাইকমান্ড বুঝতে চায় না যে, তাদের মুখে ঈদের পরে আন্দোলন- কর্মসূচীর কথা শুনলে দেশবাসী হাসি-ঠাট্টা করে।

জয়নুল আবদিন ফারুকের মতো সিনিয়র নেতাদের কাছ থেকে আরও দায়িত্বশীল নেতৃত্ব আশা করে দলটি। ‘ঈদের পর আন্দোলন’ নিয়ে ফাজলামো করা তার মতো নেতার সাজে না।

আর টানা তিন মেয়াদে দাবি আদায়ের ব্যর্থতায় মাঠপর্যায়ের নেতা-কর্মীরা ক্লান্ত। রয়েছেন দোটানায়। হাইকমান্ডের কথা শুনবেন না রাজনীতি ছেড়ে দেবেন। এই নিয়ে দ্বিধা দ্বন্দ্বে রয়েছেন। দলের এমন সাংগঠনিক অবস্থায় বিএনপির শীর্ষ নেতার ঈদের পর নতুন কর্মসূচী ঘোষণা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। যেখানে রয়েছে নিশ্চিত ব্যর্থতা আর জনগণের তাচ্ছিল্য।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ঈদের পর ঈদ যায়, মাসের পর মাস যায় কিন্তু বিএনপির আন্দোলনে জোয়ার আসে না। শুধুই আষাঢ়ের তর্জন-গর্জনের মতো বিএনপি নেতারা ডাক ছাড়েন কিন্তু আন্দোলনের দেখা মেলে না।

আরও পড়তে পারেন

+ There are no comments

Add yours