আন্দোলনের প্রেক্ষাপট রচনায় আড়ালে বিএনপি, চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ

1 min read

নিউজ ডেস্ক: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল লাভে ব্যর্থ হওয়ার পর থেকে অনেকটাই কর্মসূচিহীন অবস্থায় রয়েছে বিএনপি। বিএনপির রাজনীতি আপাতত প্রেস ব্রিফিংয়েই সীমাবদ্ধ রয়েছে।

অবশ্য দলটির একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, বৃহত্তর আন্দোলনের প্রেক্ষাপট রচনা করতে আপাতত কয়েক মাস শুধু নিয়মতান্ত্রিকভাবে প্রেস ব্রিফিং করবে বিএনপি। সরকারবিরোধী আন্দোলন চূড়ান্ত হলেই কোন রকম পরিণামের ভয়-ভীতি এড়িয়ে মাঠে নামবে বিএনপি। সেই অর্থে বর্তমান সময়ে বিএনপির নীরবতাকে ঝড়ের পূর্বাভাস বলা যেতে পারে।

এদিকে বিএনপির কয়েকজন সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, লন্ডন থেকে দলের চেয়ারপার্সন তারেক রহমান বিএনপির শীর্ষ নেতাদের ভূমিকা, সরকারের টার্গেট ও আন্তর্জাতিক মহলের গতিবিধি বোঝার জন্য এ পদক্ষেপ নিয়েছেন। সঠিক সময়ে সিদ্ধান্ত দিয়ে রাজনীতির মাঠ দখল করে ক্ষমতাসীনরা সরকারবিরোধী আন্দোলনের ডাক দিয়ে ফসল নিয়ে ঘরে ফিরবেন তারেক রহমান।

বিএনপির নীরবতাকে রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবে দাবি করে স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমেদ বলেন, একটা বিষয় স্বীকার করতেই হবে যে, বিএনপি শৃঙ্খলা হারিয়েছে। দু-একজন স্থায়ী কমিটির সদস্যও মহাসচিবের ভূমিকার ওপর অসন্তুষ্ট। ইনফ্যাক্ট আমিও মির্জা ফখরুলের দুর্বল ও ধীরগতির রাজনীতির জন্য চরম বিরক্ত। মহাসচিবের সাম্প্রতিক কার্যকলাপ কিছুটা সন্দেহজনক। আমি সন্দেহ ও ভয়ের বিষয়গুলোর উল্লেখ করে তারেক রহমানকে একাধিক চিঠি লিখেছি। আমার ধারণা তারেক সাহেব সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে সঠিক সিদ্ধান্ত নিবেন। এর জন্য অবশ্য কিছু সময় প্রয়োজন। মূলত তারেক রহমানের আদেশ পাওয়ার আগ পর্যন্ত আমরা নীরবতা পালন করব। যদিও আমাদের কয়েকজন নেতা হাইকমান্ডের নির্দেশনা অমান্য করে ড. কামালের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য বাড়াবাড়ি করছেন। বিশেষ করে মঈন খান ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের অতিরিক্ত কামালভক্তি তারেক রহমানের মনে সন্দেহ সৃষ্টি করেছে। রাজনৈতিক মহলে এগুলো নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে।

তিনি আরো বলেন, নীরবতা যে দুর্বলতা নয় এটি কিন্তু অন্যদের মনে রাখতে হবে। আমরা সঠিক সময়েই মাঠে ফিরবে। ইতিহাস সৃষ্টি করেই বিএনপি ফিরে আসবে।

এই বিষয়ে খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, আমরা কৌশলগত কারণেই নীরব আছি। বিএনপি নীরব থাকলেই দোষ! ক্ষমতাসীনদের মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে আমাদের নীরবতা। তবে সরকারবিরোধী আন্দোলন গড়ে তোলার আগে বিএনপিকে নিজের ঘর সংস্কার করার পেছনে মনোযোগ দিতে হবে। বিএনপিকে পুনর্গঠিত করতে নতুনদের অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিতে হবে। নির্বাচনে পরাজয়ের পর অবশ্যই বিএনপিকে নিয়ে সরকারের কী টার্গেট আছে তা কৌশলে জানার জন্য অপেক্ষা করছি আমরা। পাশাপাশি সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটি, দলের চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা পরিষদ ও জাতীয় নির্বাহী কমিটি এবং ছাত্রদল, যুবদল, মহিলা দল, কৃষক দলসহ দলের অঙ্গসংগঠনগুলোতেও শিগগিরই নতুন মুখ নিয়ে আসার কাজ শুরু হয়ে গেছে।

স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, তরুণদের সামনের দিকে এনে দল পুনর্গঠন করতে হবে। দরকার হলে আমাদের মধ্যে যাদের বয়স হয়ে গেছে, আমরা সরে যাবো। তারপরও দলটাকে তো টিকিয়ে রাখতে হবে। এর একমাত্র উপায় হলো পুনর্গঠন করা। আর এটি কয়েক মাসের মধ্যেই করতে হবে। তাহলেই আমরা আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারব। এর জন্য একটা প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে বিএনপি।

আরও পড়তে পারেন

+ There are no comments

Add yours